আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : পাকিস্তানে শিয়া প্রজন্ম হত্যার ধারাবাহিকতায় গত ৩ দিনে এদেশের ৮০ জন নাগরিক হতাহত হয়েছে এবং একটি ইমামবাড়ী ধ্বংস হয়েছে।
এক ব্যক্তির শাহাদাত, আহত ৩ (১৮ই ডিসেম্বর, মঙ্গলবার)
গতকাল স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে পাকিস্তানের গিলগিত শহরের ‘কান্দাস’ অঞ্চলে ৩ জন শিয়া মুসলিম উগ্র সিপাহে সাহাবা সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদেরকে দ্রুততার সাথে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত ১২ই ডিসেম্বর সোমবারের হামলায় আহত ‘যামীর আব্বাস’ ৬ দিন অজ্ঞান অবস্থায় থাকার পর গতকাল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি গিলগিতের কারাকুরুম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হুসাইন (আ.) দিবস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে হামলায় আহত হয়েছিলেন।
বোমা বিস্ফোরণ : ৬৫ জন হতাহত
এদিকে পেশোয়ার শহরের পার্শ্ববর্তী খায়বার এজেন্সি প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ‘জামরুদ’ এলাকায় শক্তিশালী এক বোমা বিস্ফোরণে ২০ ব্যক্তি নিহত এবং অপর ৪৫ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পাকিস্তানি নাগরিক ছাড়াও ৪ জন আফগান নারী ও ৩টি শিশু (১টি মেয়ে ও দু’টি ছেলে) নিহত হয়েছে। একটি বাস স্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটেছে এবং বিস্ফোরণের শিকার সকলেই বাসের অপেক্ষা করছিলেন। পুলিশের ভাষ্যমতে বিস্ফোরিত ঐ গাড়ীতে ৩০ কিলোগ্রামেরও বেশী বিস্ফোরক দ্রব্য রাখা হয়েছিল, এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ধুলিস্যাত করে দেওয়া হল একটি ইমামবাড়ী (১৬ই ডিসেম্বর, রবিবার)
সিন্ধু প্রদেশের ‘গুটকি’ শহরের ‘আলামদার’ ইমামবাড়ীটি বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উগ্রতাপূর্ণ এ পদক্ষেপ ‘সাফিহুল্লাহ দারিজু’ ও ‘আকরামুল্লাহ দারিজু’র নির্দেশে উগ্রতাবাদীদের দ্বারা বাস্তবায়িত হয়েছে।
৫ শিয়া মুসলিমের শাহাদাত (১৬ই ডিসেম্বর, রবিবার)
করাচী শহরের ‘আওরাঙ্গী টাউন’ এলাকায় দুই শিয়া যুবক সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছে। এতে শাহযাদ হুসাইনের পুত্র ‘আলী রেজা’ শহীদ এবং ফারহান আলী আহত হয়েছেন। আহত ফারহানকে ‘আব্বাসী’ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে কোয়েটা শহরের প্রখ্যাত শিয়া ব্যক্তিত্ব খাদেম হুসাইন নূরী সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে শহীদ হয়েছেন। এ হামলায় তার দেহরক্ষীর শহীদ হয়েছে। তারা শহরের আদালত স্ট্রীট দিয়ে ইকবাল মহাসড়কে অবস্থিত তাদের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন, লিয়াকত পার্কের কাছাকাছি পৌঁছার সাথে সাথে পূর্ব হতে ওঁত পেতে থাকা সিপাহে সাহাবা সন্ত্রাসীরা তাদের দু’জনের উপর গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দু’টি মোটর বাইক আরোহী সন্ত্রাসীদেরকে থামানোর চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তাদের উদ্দেশ্যেও গুলি ছোঁড়ে। এ ঘটনায় ‘রাজাব আলী’ ও ‘সাঙ্গীন খাঁ’ নামক দু’জন পুলিশ শহীদ হয়েছেন এবং ‘আব্দুর রউফ’ নামক অপর এক পুলিশ আহত হয়েছেন।
বলাবাহুল্য, পাকিস্তানের শিয়াদের বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রতিবাদে করাচীর শিয়ারা গত শুক্র ও শনিবার অনশন বসেছিল। কিন্তু পাক সরকারের প্রতিশ্রুতিতে অনশনরত শিয়ারা তাদের বাসস্থলে ফিরে যায়। কিন্তু সরকার প্রতিশ্রুতি প্রদানের পরও শিয়াদের বিরুদ্ধে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।#